সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্ত এখন আলাদা মোড় নিয়েছে। মৃত নৃত্যশিল্পী তথা ইভেন্ট ম্যানেজারের মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবার একরকম দাবি করছেন। আর পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে নিয়ে এসে আর একরকম দাবি করছে। যদিও সেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা ডিজিটাল। যদিও এই তদন্ত এখন আরও গভীরে গিয়ে করা হচ্ছে। গোটা পথের সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করার চেষ্টা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাহলেই আসল ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্তারা। কে কাকে ধাওয়া করেছিল জাতীয় সড়কে? তা নিয়ে পুলিশ একটা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনেছে ঠিকই, কিন্তু তাতে বিতর্কের সমাপ্তি ঘটেনি। তাই চূড়ান্ত ২০ মিনিটের দুর্ঘটনার সময়ের ফুটেজ জোগাড় করছে পুলিশ। যাতে সত্য সামনে আসে।
এদিকে পুলিশ এখন জাতীয় সড়ক থেকে পথ দুর্ঘটনা পর্যন্ত গোটা ১৭ কিলোমিটারের ভিডিয়ো ফুটেজ খুঁজছে। কিছু কিছু খণ্ডাংশ মিললেও গোটাটা এখন হাতে আসেনি বলে সূত্রের খবর। এই গোটা ফুটেজটি জোগাড় করতে পারলেই ধাওয়া করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার হয়নি এই ঘটনায়। যদিও পুলিশের কাছে সুতন্দ্রার সহকর্মীরা বয়ান দিয়েছেন, একটি সাদা এসইউভি গাড়ি তাঁদের ধাওয়া করেছিল। বর্ধমানের পেট্রল পাম্পের কাছে ধাক্কাও মেরেছিল। ওই এসইউভি–তে থাকা যুবকরা ইভটিজিং করেছিল। আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার পাশাপাশি গাড়ির পিছনে ধাক্কা মেরেছিল। তার জেরেই দেওয়ালে ধাক্কা মেরে পানাগড়ের রাইল মিলে ঢুকে যায় গাড়ি।
আরও পড়ুন: ‘রটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আমি নাকি বিজেপিতে যাব’, গুজবের জবাব দিলেন অভিষেক
অন্যদিকে সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিন্তু পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করেছে, সুতন্দ্রার গাড়িই ধাওয়া করেছিল ওই সাদা এসইউভি’কে। সেই পুরনো জিটি রোডের ফুটেজ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পেট্রল পাম্পের মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর তাতে উঠে এসেছে অন্যরকম বয়ান। ওই পেট্রল পাম্পের মালিকের কথা অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা ৬ মিনিটে আসে গাড়ি। এই পেট্রল পাম্প থেকেই ৩০ লিটার পেট্রল কেনেন সুতন্দ্রা। ৩ হাজার ৩৯০ টাকা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পেমেন্টও করেন। সেই সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে।
তবে এখানে একটা বিপরীত দাবি করেছেন পেট্রল পাম্পের মালিক। মহামায়া পেট্রল পাম্পের মালিক টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘ওই যুবতী গাড়ি থেকে বের হননি। গাড়ির সামনের আসনে বসেছিলেন তিনি। আর সেখানে বসেই কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পেমেন্ট করেন। তারপর গাড়িটি চলে যায়। কিন্তু ওই সাদা এসইউভি কখনও পেট্রল পাম্পে প্রবেশ করেনি। আমি ২০০ মিটার দূরে পথ দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। পুলিশরা আলোচনা করছিল এই পেট্রল পাম্পে পরিদর্শন করতে এসে। তারা সিসিটিভি ফুটেজও দেখেছে। আমাদের বয়ানও নথিভুক্ত করেছে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, এখন প্রথম ১৩ কিমির প্রমাণ খুঁজছে পুলিশ। যাতে বেরিয়ে আসে কে ধাওয়া করছিল কোন গাড়িকে। কারণ সুতন্দ্রার সহকর্মীরা দাবি করেছেন, ওই পেট্রল পাম্পে দাঁড়িয়ে ছিল সাদা এসইউভি।